সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

তিন বছরের কিছু স্মৃতি

প্রায় তিন বছর আগে, একটা Snapchat থেকে শুরু হয়েছিল আমাদের পরিচয়। তখন হয়তো ভাবতেও পারিনি, একটা সাধারণ পরিচয় একদিন এতটা আপন হয়ে যাবে। দেখতে দেখতে প্রায় তিনটা বছর কেটে গেল। এই তিন বছরে কত কিছুই না বদলেছে। সময় বদলেছে, পরিস্থিতি বদলেছে, আমাদের জীবনেও অনেক কিছু এসেছে, আবার অনেক কিছু হারিয়েছিও। কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বটা থেকে গেছে। ভালো সময়ে যেমন একে অপরের পাশে ছিলাম, তেমনি খারাপ সময়েও চেষ্টা করেছি কাউকে একা থাকতে না দিতে। কত কথা বলেছি, কত রাত গল্প করেছি, কত হাসি, কত পাগলামি, কত স্মৃতি জমেছে আমাদের। আবার কত ঝগড়া করেছি, তার কোনো হিসেব নেই। কখনো ছোট কোনো বিষয় নিয়ে, কখনো ভুল বোঝাবুঝি থেকে, আবার কখনো এমন কিছু নিয়ে, যেটা এখন মনে করলে নিজের কাছেই হাসি পায়। রাগ হয়েছে। অভিমান হয়েছে। কথা বলা বন্ধ হয়েছে। তারপর আবার ঠিকও হয়ে গেছি। হয়তো এটাই আমাদের বন্ধুত্বের সবচেয়ে সুন্দর দিক ছিল। ঝগড়া যতই হোক, অভিমান যতই হোক, শেষ পর্যন্ত কোথাও একটা জায়গায় আমরা আবার একে অপরের কাছে ফিরে এসেছি। কিন্তু ইদানীং একটা পরিবর্তন অনুভব করি। আগের মতো আর ঝগড়া হয় না। হয়তো এটা ভালো একটা ব্যাপার। কিন্তু জানো, মাঝে মাঝে এই নীরবতাটাই কেমন ...

ছোটগল্প সুইসাইড

রাগে ক্ষোভে চুপিসারে শাহেদ বাসা থেকে বের হয়ে গেল। আজ সে উদ্দেশ্যহীন, একটা চলন্ত ট্রাক বা বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে সুইসাইড করবে সে। মোবাইল বেজে উঠল পকেটে। ভুল করে মোবাইল বন্ধ করেনি শাহেদ। বাসা থেকে তানিয়া ফোন করেছে। - না বলে বেড়িয়ে গেছ! কোথায় তুমি? - একটা ট্রাক বা বাসের নিচে ঝাঁপ দেব। বেশ কনফিডেন্টলি বলল শাহেদ। - ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাসায় না আসলে আমাকে ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখাবে, লাইন কেটে দিল তানিয়া। রাত সাড়ে আটটা বাজে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখল শাহেদ, কোন রিক্সা ট্যাক্সি নেই। হেঁটে পাঁচ মিনিটের ভিতর কোন অবস্থায় বাসায় পৌঁছান সম্ভব নয়। দৌঁড় দিল শাহেদ বাসা অভিমুখে। দৌঁড়.. ..... দৌঁড়... দৌঁড়। ঠিক চার মিনিট তেত্রিশ সেকেন্ডে বাসার কলিং বেল চাপে শাহেদ।

প্রেম কত প্রকার ও কি কি??

১. প্রথম প্রেমঃ জীবনের প্রথম প্রেম সবার কাছেই স্মরনীয় হয়ে থাকে। প্রথম প্রেমের কোন নির্দিষ্ট বয়স নেই তবে অনেকের ক্ষেত্রেই খুব কম বয়সে প্রথম প্রেম এসে থাকে। প্রথম প্রেম বেশিরভাগ সময়ই আদতে প্রেম হয়না, সেটা হয়ে থাকে Infatuation। প্রথম প্রেম হতে পারে কোন বাল্য বন্ধু, হতে পারে গৃহশিক্ষক বা স্কুলের শিক্ষক বা শিক্ষিকা, হতে পারে বয়সে বড় কোন আপু, হতে পারে কোন ফিল্মের নায়ক বা নায়িকা, হতে পারে পাড়ার কোন হ্যান্ডসাম তরুনী বা বড়ভাই। কারো কারো ক্ষেত্রে আবার জীবনের প্রথম প্রেমই একমাত্র প্রেম। . ২. প্রথম দেখায় প্রেম/Love at First Site: প্রথম দেখাতেই এই ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। এ ধরনের প্রেম অনেক ক্ষেত্রেই একতরফা হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়। প্রথম দেখাটা হতে পারে কোন বিবাহ অনুষ্ঠানে, শপিং মল, কলেজ, ভার্সিটি, কোচিং সেন্টারে, স্যারের বাসায়, বন্ধু আড্ডায়। এমনকি বন্ধুর মোবাইলে ছবি দেখেও এ ধরনের প্রেমের শুরু হতে পারে। এ ধরনের প্রেমে প্রায় অবধারিতভাবেই তৃতীয় পক্ষের (বন্ধুকূল বা বড়ভাই) সাহায্যের দরকার পড়ে। এ ধরনের প্রেমের সূত্রপাতে রূপ সৌন্দর্য্য ও দৈহিক সৌন্দর্য্যের ভু...

চিরসত্য

"আজ তুমি যাকে যেভাবে কষ্ট দিচ্ছো, ঠকাচ্ছো, অবহেলা করছো, ইমোশন নিয়ে খেলতেছো, প্রতারণা করছো। ভেবো না যে তুমি পার পেয়ে যাবে। অতটা সোজা মনে করো না। হঠাৎ কোন একদিন আসবে যেদিন তুমি ঠিক একই ভাবে কারোর দ্বারা কষ্ট পাবে, ঠকে যাবে, অবহেলিত হবে, প্রতারিত হবে। আর সেই দিনটা খুব বেশি দূরে নয়... অপেক্ষায় থেকো!! . জানো তো এই পৃথিবীটা কিন্তু গোল। এখানে তুমি যা করবে, যে অন্যায় করবে, যে পাপ করবে, তা ঠিক ঘুরেফিরে কোন একদিন তোমার কাছে চলে আসবেই। আসতে বাধ্য... তোমার কারণে যদি কারোর চোখ থেকে এই ফোটা পানিও পড়ে যায়, অপেক্ষায় থাকো কেউ একজন তোমার চোখ থেকে শত শত ফোটা পানি পড়ার কারণ হবে!! . দিনের পর দিন যার সাথে ভালোবাসার মিথ্যে অভিনয় করে আসতেছো। একটু একটু করে একটা মানুষের বিশ্বাস নিয়ে মন মতো খেলতেছো। অথচ ও পাশের মানুষটা তোমার ছলনা কিছুই বুঝতে পারেনি, তাই বলে ভেবো না তুমি জিতে গেছো। অপেক্ষা করো একই ভাবে কেউ না কেউ তোমার ভালোবাসা নিয়ে মিথ্যে অভিনয় করে যাবে, তোমার বিশ্বাস নিয়ে খেলবে!! . আমি নিজেও এটা খেয়াল করেছি।  যদি কখনো কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি তো অন্য কোন দিন কেউ একজন তারচেয়েও বেশি খারাপ ব্যবহ...

কিছু কথা

টিউশনির টাকা জমিয়ে যে মানুষটা আপনাকে সারপ্রাইজ দেয় কিংবা খুশি করে, সেই মানুষটা আর যাই হোক আপনার সাথে মিথ্যে ভালোবাসার অভিনয় করে না!! শত ব্যস্ততার মাঝে থেকেও যে ঠিকমতো আপনার খোঁজখবর রাখে কিংবা আপনার ফোন কখনো ব্যস্ততা দেখিয়ে কেটে দেয় না, সেই মানুষটা আর যাই করুক না কেনো আপনাকে কখনো ঠকাবে না!! যে মেয়েটা শাড়ি পড়তে চায় না অথচ আপনার পছন্দের জন্য কষ্ট করে শাড়ি পড়ে, চোখের নিচে কাজল টানে কিংবা আপনার পছন্দমতো সেজেগুজে বের হয়, বিশ্বাস করুন সেই মেয়েটার ভালোবাসার মাঝে কোনো ছলনা নেই!! যে ছেলেটা সিগারেট ছাড়া থাকতে পারতো না, সেও যদি আপনার কথায় সিগারেট ছেড়ে দেয় কিংবা অগোছালো জীবনটা গুছিয়ে নিতে চেষ্টা করে, তবে মনে রাখুন সেই ছেলেটা আপনাকে কখনো ধোকা দিবে না!! তোমার শত অপরাধ থাকার পরেও যে মানুষটা বার বার নিজে আগে সরি বলে তোমাকে জিতিয়ে দেয় শুধুমাত্র তোমার মুখের হাসির জন্য কিংবা সম্পর্কটা ঠিক রাখার জন্য, সেই মানুষটা আর যাই করুক কখনো তোমার মন ভাঙ্গবে না!! তোমার অযথা বকবকানি শুনে যে মানুষটা বিরক্ত হয় না কিংবা তোমার রাগ ভাঙাতেও যে ক্লান্ত হয় না বরং ভালোবেসেই যায়। সেই মানুষটা যাই করুক কখনো তোমার বিশ্বাসঘ...

আজ বোনের বিয়ে

আমার কাছে বোন বলতে অন্য এক পৃথিবী। যার সাথে মন খুলে সব বলা যায়। মন খুলে কথা বলা যায়। ঝগড়া করা, খুনসুটি করা যায়। ভালোবাসা, মায়া-মমতা আর আহ্লাদে মুখরিত থাকা যায়। আমি আমার বোনটার সাথে সবকিছুই করি। সে আমার কাছে প্রশান্তির অন্য একরূপ। বোনটাকে আমি আমার ভালোলাগা,খারাপ লাগা; সব কথাই বলি। সেই সুবাদে সে আমার সব কিছুই জানে। সুনশান-নিস্তব্ধ  রাত। প্রচণ্ড কুয়াশায় ঢেকে আছে পৃথিবী। লো ভলিউমে কানে হেডফোন লাগিয়ে শুনছি "বৃষ্টি পড়ার রিমঝিম শব্দ" ঘুম নেই। নিঃশব্দ আর্তনাদে পূর্ণ সময়। হাহাকারে প্রতিটি নিঃশ্বাস। কতবার ভুলে যেতে চেয়েছি—"পৃথিবীর সব সম্পর্কই স্থায়ী হয় না কোনোদিন তার জন্য কেঁদে লাভ নেই" বলে প্রবোধ দিতে চেয়েছি নিজেকে, পারি নি। নাহ,পারি নি। ব্যর্থ হয়েছি বারবার।  বোনটাকে নিজের পাশে শেষবারের মত অনুভব করে ওর দিকে একটা অদ্ভুত প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম। আমার প্রশ্নটা শুনে সে ফুলস্টপ হয়ে গেলো। ওর জবাব না দেয়ার ব্যথাটা আমাকে আরেকটু বেশি রক্তাক্ত করলো। ও আমার গা ঘেঁষে বসলো। আমি বোনটার কাঁধে মাথা রেখে কাঁদি। জগতের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল ঐ কাঁধ। আমার আগেই বোঝা উচিত ছিলো। প্রত্যেক জিনিসেরই একটা...

পার্থক্য

মেয়েরা সহজে কাউকে প্রোপোজ করে না, অথচ ভিতরে শুরু হওয়া কারো প্রতি ক্রাশের গল্পটা ধীরে ধীরে ভালোলাগায় বদলে যায়। সেখান উথাল পাথাল ভালোবাসার ঢেউ সৃষ্টি হয়। তবুও কি এক অদ্ভুত ক্ষমতায় সেটা তারা চেপে ধরে রাখতে পারে, গোপন করতে পারে যেকোন মূহুর্তে। কিন্তু কখনও যদি কোন মেয়ে তার নিজের সবটুকু নারীত্বের ইগো বিসর্জন দিয়ে কোন ছেলেকে প্রোপোজ করে বসে, এবং ছেলেটি যদি রিফিউজ করে, তবে এই ইহজনমেও ছেলেটিকে সে ভুলতে পারে না। ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রোপোজ করাটা মেয়েদের মত অত জটিল কিছু না। কারো প্রতি আবেগটা ক্রাশ, ভালোলাগা নাকি সাময়িক ইনফ্রাচুয়েশন সেটা বোঝার আগেই দুমদাম প্রোপোজ করে বসে। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছেলেরা প্রোপোজ করার পর রিফিউজড হয় বলে সহ্য করার একটা অভ্যাস অনেক আগে থেকেই তৈরী হয়ে যায়। তাই দুইদিন মন খারাপ করে পরেরদিন আবার ঠিকই পাশের বাড়ির রীতা কিংবা ক্লাশের স্পর্শীয়ার দিকে হৃদয়ের দিক সরিয়ে নেয়। তবে কিছু মানুষ থাকে। যাদের খুব কাছে কেউ থাকলেও বুঝতে পারে না যে তাকে ভালোবাসে কিনা, তার প্রতি একটু দম আটকানো অসহ্য অনুভূতিগুলো এক কোনায় জমা আছে কি না কারন প্রকাশ হয় না কিছুই। প্রকাশ হয় সেই কাছের মানুষটা দূরে সরে গেল...

বাস্তবতা

"একটা বয়সের পর আর কারো জন্য মন থেকে পাগলামি করা কিংবা অধিকার খাটাতে ইচ্ছা করে না, যেমনটা ইচ্ছা করেছিলো প্রথম সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষটার উপর !! এখন আর কেউ ব্যস্ততার অজুহাত দেখালে রাগ হয় না কিংবা কোনো খবর না নিলেও অভিমান হয় না। এখন আর নিত্যনতুন বাহানা কিংবা ইচ্ছা করেই ঝগড়া করতে ইচ্ছা হয় না। খুব দরকার না পড়লে জানতে ইচ্ছা করেনা কারোর সারাদিনের খবর। আগে সব আবেগের মাঝে ছিলো, এখন সব বাস্তবতায় চলে আসছে !! নির্দিষ্ট একটা সময়ের পর জীবনে অনেক কিছুই বদলে যায়। বদলে যায় মনের সব অনুভূতিও। বাস্তবতার কারণে হোক কিংবা কখনো ভুল কোনো মানুষের প্রতারণার শিকার হয়ে মানুষটা যখন জীবনের মর্মটা বুঝতে পারে, তখন থেকেই মানুষ উপলব্ধি করতে পারে নাটক কিংবা সিনেমার মতো জীবনের গল্পটা সাজানো যায় না !! প্রথম যে মানুষটার উপর একবার মন আটকে যায়, সেই মানুষটা চলে গেলে পুরো জীবনটাই বদলে যায়। পরে তার থেকে আরো যতো সুন্দর কিংবা ভালো মানুষই জীবনে আসুক না কেনো, ঐ চলে যাওয়া মানুষটার মতো অনুভূতি আর কোনো মানুষের উপর পড়ে না। আর কারো উপর মন আটকে যায় না !! জীবন তো আর কারো জন্য থেমে থাকে না, তাই একটা পর্যায় নতুন মানুষ আসে। তার মতো করেই ম...

★অসহায়★

"একটা সম্পর্ক যখন একজনের কারণে ভেঙে যায়, তখন অপর মানুষটা বড্ড অসহায় হয়ে পরে... চাইলেও কিছু করা যায় না, বাস্তবতার কাছে হার মেনে নিতে হয় !! . যে মানুষটা সম্পর্ক ভেঙে চলে যায়, সে জানে না অপর মানুষটাকে কতটা আঘাত দিয়ে সে চলে গেলো... কতটা একা করে চলে গেলো... মানুষটা কখনো বুঝবে না স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা কতটা কঠিন হতে পারে... মন ভাঙার যন্ত্রণা কতটা ভয়াবহ হতে পারে !! . সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর মানুষ যতটা কষ্ট পায়, তার থেকে বেশি কষ্ট পায় হারানো মানুষটার উপর অধিকার হারিয়ে ফেলার কারনে... কারণ বিচ্ছেদ শুধু মানুষটাকেই দূরে রাখেনা, মানুষটার সাথে সমস্ত অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়ে যায় !! . যে মানুষটার সাথে নিয়মিত কথা হতো, এখন আর কথা হবে না... যাকে যখন তখন ফোন দেয়া যেতো, এখন সেই অধিকার নাই... যাকে যখন তখন দেখা করার জন্য বলা যেতো, এখন সেই সুযোগ নেই... কারণে অকারণে যার সাথে নিয়ম করে মান-অভিমান কিংবা ঝগড়া করা যেতো, এখন মানুষটা অন্য কাউকে নিয়ে ব্যস্ত !! . প্রিয় মানুষটাকে হারিয়ে ফেলার কারণে মানুষ যতটা কাঁদে, তার থেকে বেশি কাঁদে মানুষটার উপর সম্পূর্ণ অধিকারটুকু হারিয়ে ফেলার কারনে... যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতো, একসাথে ব...

অভিমানী নিলাম্বড়ী

- কি রান্না করছো এইগুলো?? এসব মানুষ খায়??? কি শিখছো জীবনে??? এখনও রান্নাও করতে পারোনা... যত্তসব!!!! "এমনি আনলিমিটেড ভাবে ওকে কথাগুলো বললাম.....আসলে রান্নাটা অনেক ভালো হইছে কিন্তু আজকে ওর অভিমানী মুখটা দেখতে খুব ইচ্ছে হলো, তাই ইচ্ছে করেই এসব বলছি..... - এভাবে বলছো কেন?? আমিকি ইচ্ছে করে এমন করছি? - আমি কি জানি? করতেও পারো - তুমি এই কথাটা বলতে পারলে?( কান্নাজড়িত কন্ঠে ) - হ্যা পারলাম, কারন প্রতিদিন তোমার হাতের এসব বাজে খাবার আর ভালো লাগেনা। - তার মানে আমার রান্না তোমার কাছে কখনও ভালো লাগেনি?? ( এখনি কেদে দিবে মনে হয় ) - না লাগেনি, তুমি খাও এসব আমি গেলাম.... কিছুসময় পর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। বুঝলাম নিলাম্ভরি কাদছে। ও হ্যা পরিচয়টাইতো দেওয়া হয়নি, আমি আদি। আমার বউ তাহমিনা, আদর করে নিলাম্ভরি ডাকি। আমাদের বিয়ে হয়েছে আজকে ৬মাস। বিয়ের আগে প্রেম করলেও পারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়েটা সম্পন্ন হয়। খুব সুখেই আছি দুজন। ঐদিকে ও কান্না করেই চলছে। আমিও চাই কাদুঁক, কাঁদতে কাঁদতে যেন ওর অভিমানের মাত্রা ১০০০ বোল্টের হয়..... যাইহোক রাতে আর খাওয়া হয়নি। জানি পাগলিটাও খায়নি....হঠাৎ কান্নার আওয...

মায়াজাল

উফ, আর ভালো লাগছেনা অফিসে যেতে......... মনে মনে বলল হাদী। আর লাগবেও বা কিভাবে? অফিসে জয়েন করার পর তার সাথে যা ঘটছে রীতিমতো বিরক্তিকর। নতুন অফিসে ম্যানেজার হিসাবে জয়েন করার পরে দেখলো তার অফিসে যিনি এমডি তিনি আর আর কেউ নন তারই একসময়ের সহপাঠিনী স্পর্শীয়া। পরে বুঝতে পারলো স্পর্শীয়ার বাবাতো এই কোম্পানির চেয়ারম্যান আর সেই সুবাদে তার এই পজিশন। ভার্সিটি লাইফ থেকে স্পর্শীয়া তাকে পছন্দ করতো সেটা সে জানতো কিন্তু কখনো সেটা গায়ে লাগায়নি। এখনতো রীতিমতো স্পর্শীয়ার সাথে সারাক্ষন থাকতে হয়। মাঝে মাঝে যখন স্পর্শীয়ার দিকে তাকায় তখন দেখে স্পর্শীয়া তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তখন হাদীর অনেক অস্বস্তি বোধ করে। বড় ধরনের অঘটন ঘটেছে গত সপ্তাহে স্পর্শীয়ার জন্মদিনে। সেখানে স্পর্শীয়া হঠাৎ করে হাদীর নাম ঘোষণা করে গান গাওয়ার জন্য কারন স্পর্শীয়া জানতো হাদী ভালো গাইতে পারে। তাই অগত্যা গান গাইলো তাও মায়ের গান। হাদী গান গাওয়ার আগেই বলেছিলো আজকের দিনে যিনি এই পৃথিবীতে এসেছিলেন তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই মা যার কারনে আজকে এই স্পর্শীয়া ম্যাডামকে আমরা পেয়েছি। সে মাকে নিয়ে আজকে আমার পরিবেশন...

ভালোবাসা II

যেদিন কলেজে প্রথম যাই সেদিন আমি নিশ্চুপ ছিলাম। তেমন কাউকে চিনি না। প্রথম কয়েকদিন ক্লাস হয়নি। এর কয়েক দিন ঠিকঠাক মত ক্লাস হচ্ছে। আমি একটু লাজুক টাইপের ছিলাম। হঠাত্‍ ক্লাস চলাকালীন সময়ে একটা মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে কি যেন করল। মানে চোখ টিপা মারল আরকি। আমি শরমে মাথা নিচু করে ফেললাম। মেয়েটার নাম স্পর্শীয়া। একদিন ক্যাম্পাসে হেটে যাচ্ছিলাম হঠাত্‍ হাম্বা বলে ডাক দিল। আমি বামে ডানে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই তার মানে আমিই হাম্বা। আচ্ছা আমি কি গরু? বাসায় এসে নিজের কোমড়ের নিচে তাকিয়ে দেখলাম কই আমার তো লেজ নেই। আমার তো দুইটা শিং নেই তাহলে হাম্বা বলে ডাক দিল কেন? এই মেয়েটা একটা বদ মেয়ে। আমি কত ভদ্র ছেলে আর আমাকে হাম্বা বলে। এরপর থেকে স্পর্শীয়াকে দেখলেই নিজেকে আড়াল করে রাখতাম। কিন্তু মেয়েটার সামনে কিভাবে যেন হাজির হয়ে যেতাম। এবার আমাকে রামছাগল বলে ডাকল। আমি মাথা নিচু করে বললাম আপনি আমাকে দেখলে এই রকম করেন কেন? মাথা নিচু করে এজন্যই বললাম মেয়েদের চোখের দিকে তাকাতে পারি না। চোখের দিকে তাকাঁলে কলিজা ধুক ধুক করে আর বুকের মাঝে কম্পন তৈরি হয়। " আল্লাহ খোকা বাবু তুমি আমাকে আপনি করে বলতেছো? "দেখেন...

★অভিমান II★

- যখন জিন্সের মোটা মোটা প্যান্টগুলো নিজের হাতে কাঁচতে হবে তখন বুঝবা। - আজ থেকে আর তোমার কাঁচতে হবেনা আমিই কাঁচব। - মজার মজার রান্না কে করে খাওয়াবে? সেটা তো আর নিজে করতে পারবানা। যখন পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখ জ্বলবে তখন বুঝবা। - রান্না করার খোঁটাও দাও এখন। ভুলে যেওনা চার বছর মেসে থাকার অভিজ্ঞতা আছে আমার। কাল থেকে আমার রান্না আমিই করবো। তোমার আর করতে হবেনা। - এগুলা নাহয় বাদ দিলাম। আমাকে ছাড়া যে তোমার ঘুম হয়না। তখন তো পাগলের মত হয়ে যাও। - এটাও সমস্যা? ওকে তাহলে কাল থেকে রাতে আর বাসায় ফিরব না। তাহলেই তো সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। - আমাকে ছাড়া ভাল থাকতে পারবা? - ভাল থাকার অভিনয় তো জন্ম থেকেই করে আসছি। আর এখন পারবো না? - ঠিকাছে ঠিকাছে কালকেই চলে যাবো। আমাকে তো আর কারো এখন প্রয়োজন নেই। একা একাই সব করতে পারে। - কথাগুলো শুনতে এখন আর খারাপ লাগেনা লাল মরিচের গুঁড়ায় যদি কাঁচা মরিচ দেয়া হয় তাহলে লাল মরিচের ব্যাথা লাগেনা। - এতো কথা প্যাঁচানোর কিছু নেই। বুঝি সব বুঝি। - ঠিকমত কাঁদতেই পারনা তাহলে কাঁদার কি দরকার? কই! চোখ দিয়ে তো একটুও পানি পরেনা। - তাতে তোমার কি? আমি কাঁদলেই কি? হাসলেই কি? তোমার ...

☆দায়ভার☆

শীতের রাত, কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে চারিদিক। রুমা পালিয়ে গেছে অনেক্ষণ হলো, রুমার মা অস্থিরভাবে পায়চারি করছেন শুধু কি করবেন যেনো বুঝতেই পারছেন না। তিন ভাইয়ের এই একটাই বোন রুমা। ছোট থেকেই ভীষণ আদরের ছিল ,কিন্তু আট বছর বয়সে ভয়ংকর এক জ্বরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এখন সে সবার কাছে রুমা পাগলি নামেই পরিচিত! চিকিত্‍সাও খুব একটা কম হয়নি তার। তবে অশিক্ষিত পরিবারে জন্ম হওয়ায় জ্বিনে ধরেছে মনে করে ঝাড়ু পেটাই খেতে হয়েছে বেশি রুমার! এতে ভালো তো হয়নি মাথাটা আরো বিগড়ে গেছে যেন! শীত আসলে পাগলামি বেড়ে যায় । রুমার মা দৌঁড়ে গিয়ে ছেলে রাজুকে ডেকে তুলেন "রাজু রুমাতো পালিয়ে গেছে! কোথায় গেল একটু দেখনা বাপ!" রাজুর চোখে মুখে একরাশ বিরক্তি ফুটে উঠে,বলে"পালাতে দিলে কেন তুমি?আমি এখন কোথায় খুঁজবো তাকে?" - আমার সাথেই তো ঘুমিয়েছে ,কখন যে উঠে গেল টের-ই পেলামনা । রাজু পাশের বাড়ি থেকে রনিকে ডেকে তুলে খুঁজতে থাকে? কিন্তু কোথাও পায়না! ওরা যখন রুমার খোঁজে ব্যস্ত রুমা তখন অনেক দূরে, রুমাকে নিয়ে তখন চলছে মানুষ রুপি হিংস্র হায়নাদের পাশবিকতার চরম উল্লাস! রুমা বাড়ি থেকে বেরুতেই ওদের একজন রুমার...

মিষ্টি মেয়ে

সকাল সাড়ে আটটা। মিষ্টি মেয়েটার জন্য এই সময়টা হলো আদুরে ঘুমের সময়। কিন্তু সে আজ আদুরে ঘুমকে উপেক্ষা  করে গোসল সেরে এখন ড্রেসিং টেবিলের সামনে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে গোছগাছ সেরে নিতে হবে। প্রতিদিনের মতো আজও আম্মু বকা দিচ্ছে! তবে আজ আম্মুর চেয়ে যেনো তারই তাড়া বেশি। এই দিনটার জন্য সে আজীবন অপেক্ষা করে আসছে। . আজ যে তার বিয়ে, বোকা ছেলেটার সঙ্গেই। এতটা আনন্দ আগে কখনো হয়েছে বলে মনে পড়ে না। বাড়িতে ধুমধাম বাদ্যবাজনা না বাজলেও মনের মধ্যে ঠিকই বাজছে। আচ্ছা, এত খুশি লাগার কারণ কী! শুধুই কি পাগলটাকে পাচ্ছি তাই! নাহ, আরও একটা কারণ আছে। সেটা হলো আজকের পরের জীবনটা হবে সম্পূর্ণ নতুন। বৈচিত্র্য আর রহস্যে ভরা এক জীবন! চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে এগুলোই ভাবছে মিষ্টি মেয়ে। এ ছাড়া আর কীই-বা করবে। হাতে কোনোই কাজ নেই। ১০টার দিকে বরপক্ষ আসবে। পারিবারিকভাবে বিয়ের পর্ব সেরে দুপুর থেকে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বোকা ছেলেটা নাকি নিজেই পছন্দ করে কিনে পাঠিয়েছে। কী সুন্দর! কদিন ধরে ওর সঙ্গে খুব কথা বলতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু এসব ব্যস্ততার মধ্যে কারোরই সময় হচ্ছে না। এক কাজ করলে কেমন হয়! এখনই ফোন করি ওকে। কে জানে, ও হয়ত...

অপ্রকাশিত

অফিসে যাওয়ার সময় পাশের ওই মহিলা কলেজের গেটের সামনে গিয়ে একটু রিক্সাটা থামালাম। থামিয়ে গেটের ভেতর দিয়ে একটু চোখ মেলে তাকালাম,  তাহমিনা গেটের কাছে আছে নাকি, তাই ওকে একটু দেখার জন্য। আমি আদি, একটা জব করি। মা বাবার সাথে বাসায়ই থাকি আর বাসায় থেকেই জব করি। . আর তাহমিনা হলো একটা মেয়ে, যাকে আমি পছন্দ করি। প্রথম যেদিন জব করতে অফিসে যাই সেদিন যাওয়ার সময় কলেজের সামনে ওকে দেখি আর তখনই ভালো লেগে যায়। তাই প্রতিদিন যাওয়ার সময় কলেজের ভেতর দিকে একটু উকি দিয়ে যাই, ওকে দেখার জন্য। . ওর বেশী কিছু পরিচয় জানি না, শুধু নামটা জানতে পেরেছি। রাস্তা থেকে কলেজের ভেতরে অনেক কিছু দেখা যায় অনেক ভেতর পর্যন্ত। আর তাহমিনা দেখতে অনেক সুন্দর কিন্তু আমি অতটা সুন্দর না, একটু শ্যামলা ধরনের। তাই কখনো ভালবাসার দাবি নিয়ে ওর সামনে যাইনি। . যদি আমাকে ওর পছন্দ না হয়, যদি ফিরিয়ে দেয়, তখন শুধু কষ্ট ছাড়া আর কিছু পাবো না, তার থেকে ভালো ওকে দূর থেকেই দেখে যাই। তাই আমি আমার মতো থাকি কখনো ওর সামনে ওর সাথে কথা বলতে যাইনি। যদি কিছু বলে, তখন শুধু শুধু অপমানিত হবো। . অফিসে যাওয়ার সময় একেক দিন ওকে দেখতে পাই আবার কোনো দিন দেখতে...

★বন্ধুত্ব অতঃপর ভালোবাসা★

কুয়াশাভেজা মিষ্টি একটা শীতের সকাল। কুয়াশা কাটিয়ে সবে মাত্র সূর্যের মিস্টি আলো চারিদিকে আভা ছড়াচ্ছে। ইউনিভার্সিটির সামনের একটা চায়ের টং-এ বসে খুব মনোযোগ দিয়ে গরম চায়ে ভিজিয়ে পাউরুটি খাচ্ছে হাদী । . হঠাৎ একটা রিকশা এসে থামলো টং টার পাশে। রিকশা থেকে নামছে স্পর্শীয়া । লাল রংয়ের একটা শালে  স্পর্শীয়াকে  আজ অপূর্ব লাগছে ।  . - “কি ব্যাপার ক্লাসে যাবি না?” স্পর্শীয়া র কথায় হাদীর হুশ ফেরে । - “না রে, মুড নেই।” চায়ে চুমুক দিতে দিতে বলল হাদী। . - “তোকে না বলছিলাম আমার একটা স্কেচ আর্ট করে দিতে। করেছিস ঐটা ?” - “না । টাইম কোথায় আমার?” - “তাহমিনাকে যে করে দিলি।” - “আরে ও আমাকে এর জন্য ২০০ টাকা দিছে। তুই দে, তোকেও করে দিবো।” - “টাকা নিয়ে ছবি আঁকবি? তুই না আমার বেস্ট ফ্রেন্ড” - লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি পর্যন্ত টাকা নিতেন। উনি বলেছেন, হে বৎস ছবি এঁকে অবশ্যই টাকা নিবে। নইলে তোমার মেধার মূল্য দিবে না কেউ। - লাগবে না তোর আর্ট । এখন ক্লাসে চল। - তোকে না বললাম আজ ক্লাসে যাব না। বাংলায় তো বলছি। নাকি বাংলা ভাষা বুঝিস না। আর এখন এইখান থেকে যা তো । আমাকে একটু শান্তিতে ...

বউ

বেডরুমে বসে মেয়েটা টিভির চ্যানেল পাল্টাতে পাল্টাতে বলল, 'একটা লাইসেন্স ওয়ালা পিস্তল কিনতে হবে। টাকা জমাচ্ছি।' ছেলেটা আয়নার সামনে খুব সুন্দর করে চুলে স্পাইক করছিল। বউয়...

বুদ্ধিজীবি অব দ্যা ইয়ার

আকিজ সাহেব তার অফিসের চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ দু’টো বুজে নিজের কথা চিন্তা করছিলেন। চিন্তা করছিলেন আজ তিনি কোথা থেকে কোথায় এসে পৌছেছেন। চিন্তা করতে করতে হঠাৎ আকিজ সাহেব শরীরটা ঝাকি দিয়ে চোখ খোলে সোজা হয়ে বসলেন। এবং মনে মনে ভাবলেন- কি সব বাজে চিন্তা !! এই চিন্তা করার কোন মানে আছে?? আকিজ সাহেব বর্তমানে এই শহরের একজন বিরাট ব্যবসায়ী। অনেক গুলো প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি তবে মজার ব্যপার হলো তিনি যে সকল প্রতিষ্ঠানের মালিক তার অধিকাংশই ইলেকট্রনিক্সের প্রতিষ্ঠান। বিষয়টাকে যদি মজার ব্যপার বলি তাহলে ভুল হবে, বিষয়টা বাস্তব। আজ থেকে প্রায় ২৩ বছর আগে তিনি এই অবস্থানে ছিলেন না, তার অবস্থা ছিল খুবই নগন্য। সেই সময় কারওয়ান বাজারে তার একটি দোকান ছিল যেখানে টিভি, ফ্রিজ, এসি সহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক্স পন্য মেরামত করা হতো। প্রথম দিকে লোকটি ভালই সৎ ছিল, পরবর্তী সময়ে তার ভিতরে একটু অসততা বসবাস করতে শুরু করে। এই সময় যে সকল পন্য আসত তার কাছে, সে সেগুলো ভাল ভাবে ঠিক না করে গ্রাহককে দিয়ে দিতেন। আবার অনেক সময় তিনি বলতেন এই পণ্যটি ডেথ্, এটি আর ঠিক করা যাবে না। এই বলে তিনি তাদের কাছ থেকে কম দামে পণ...