প্রায় তিন বছর আগে, একটা Snapchat থেকে শুরু হয়েছিল আমাদের পরিচয়।
তখন হয়তো ভাবতেও পারিনি, একটা সাধারণ পরিচয় একদিন এতটা আপন হয়ে যাবে।
দেখতে দেখতে প্রায় তিনটা বছর কেটে গেল।
এই তিন বছরে কত কিছুই না বদলেছে।
সময় বদলেছে, পরিস্থিতি বদলেছে, আমাদের জীবনেও অনেক কিছু এসেছে, আবার অনেক কিছু হারিয়েছিও।
কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বটা থেকে গেছে।
ভালো সময়ে যেমন একে অপরের পাশে ছিলাম,
তেমনি খারাপ সময়েও চেষ্টা করেছি কাউকে একা থাকতে না দিতে।
কত কথা বলেছি,
কত রাত গল্প করেছি,
কত হাসি, কত পাগলামি, কত স্মৃতি জমেছে আমাদের।
আবার কত ঝগড়া করেছি, তার কোনো হিসেব নেই।
কখনো ছোট কোনো বিষয় নিয়ে,
কখনো ভুল বোঝাবুঝি থেকে,
আবার কখনো এমন কিছু নিয়ে, যেটা এখন মনে করলে নিজের কাছেই হাসি পায়।
রাগ হয়েছে।
অভিমান হয়েছে।
কথা বলা বন্ধ হয়েছে।
তারপর আবার ঠিকও হয়ে গেছি।
হয়তো এটাই আমাদের বন্ধুত্বের সবচেয়ে সুন্দর দিক ছিল।
ঝগড়া যতই হোক,
অভিমান যতই হোক,
শেষ পর্যন্ত কোথাও একটা জায়গায় আমরা আবার একে অপরের কাছে ফিরে এসেছি।
কিন্তু ইদানীং একটা পরিবর্তন অনুভব করি।
আগের মতো আর ঝগড়া হয় না।
হয়তো এটা ভালো একটা ব্যাপার।
কিন্তু জানো, মাঝে মাঝে এই নীরবতাটাই কেমন যেন বেশি অনুভব হয়।
মনে হয়, হয়তো তুমি এখন ঝগড়াগুলো এড়িয়ে যাও।
হয়তো তুমি বিরক্ত হয়ে গেছো।
হয়তো একই কথা, একই অভিমান, একই ভুল বোঝাবুঝি সামলাতে সামলাতে তুমি হাপিয়ে গেছো।
হয়তো এখন আর আগের মতো কোনো বিষয় নিয়ে কথা বাড়াতে ইচ্ছে করে না।
আর আমি জানি না, এই পরিবর্তনটা সময়ের কারণে,
নাকি আমাদের দুজনেরই বদলে যাওয়ার কারণে।
তবুও একটা কথা বলতে চাই...
আমাদের মধ্যে যত ঝগড়াই হয়ে থাকুক,
যত অভিমানই হয়ে থাকুক,
কখনোই আমি সেগুলো দিয়ে আমাদের বন্ধুত্বটাকে বিচার করিনি।
কারণ আমি সবসময় আমাদের ভালো সময়গুলোই মনে রাখতে চাই।
সেই প্রথম পরিচয়টা,
প্রথম দিকের কথাগুলো,
অকারণে হাসাহাসি,
একটা ছোট বিষয় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা...
আর সেই সময়গুলো, যখন একজনের মন খারাপ থাকলে অন্যজন কোনো না কোনোভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
বন্ধুত্বের আসলে কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা হয় না।
কিছু মানুষ খুব অল্প সময়ের জন্য জীবনে আসে,
আবার কিছু মানুষ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের একটা অংশ হয়ে যায়।
তুমি আমার জীবনে কোন জায়গায় আছো,
সেটা হয়তো আমি সুন্দর করে কোনো একটা শব্দে বোঝাতে পারবো না।
শুধু এটুকু জানি,
প্রায় তিন বছর ধরে তুমি আমার জীবনের একটা পরিচিত অধ্যায় নও...
তুমি আমার অনেক স্মৃতির অংশ।
আর ভবিষ্যতে আমাদের বন্ধুত্ব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে,
সেটা আমি জানি না।
হয়তো আমরা আগের মতোই থাকবো।
হয়তো সময়ের সঙ্গে আরও অনেক কিছু বদলে যাবে।
হয়তো কথা কমে যাবে,
হয়তো দূরত্ব বাড়বে।
কিন্তু একটা জিনিস বদলাবে না...
এই প্রায় তিন বছরে তোমার সঙ্গে কাটানো সময়গুলোর মূল্য আমার কাছে।
কারণ জীবনে সবাই বন্ধু হয়ে আসে না।
আর সবাইকে নিয়ে এতগুলো স্মৃতি তৈরি হয় না।
তাই যদি কোনোদিন আমাদের মধ্যে অনেক দূরত্বও চলে আসে,
যদি কোনোদিন আগের মতো কথা না হয়,
তবুও আমি চাই না তুমি ভাবো যে এই বন্ধুত্বটা আমার কাছে কখনো গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।
বরং সত্যিটা হলো...
তোমার সঙ্গে যত ঝগড়া করেছি,
যত অভিমান করেছি,
যতবার রাগ করেছি...
তার থেকেও অনেক বেশি তোমাকে একজন বন্ধু হিসেবে মূল্য দিয়েছি।
আর হয়তো বন্ধুত্বের সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপারটাই এটাই...
সবসময় একসঙ্গে থাকা নয়,
বরং দূরত্ব, অভিমান আর সময়ের পরিবর্তনের পরেও
কাউকে নিজের জীবনের সুন্দর একটা অংশ হিসেবে মনে রাখতে পারা।
প্রায় তিন বছর আগে Snapchat-এর একটা সাধারণ পরিচয় থেকে যে গল্পটা শুরু হয়েছিল...
সেটা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে, আমি জানি না।
কিন্তু এই গল্পের একটা অধ্যায় আমি সবসময় মনে রাখবো।
কারণ সেখানে ছিল একজন মানুষ,
যার সঙ্গে আমি হেসেছি,
কেঁদেছি,
ঝগড়া করেছি,
অভিমান করেছি...
আর অসংখ্য মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছি।
আর সেই মানুষটা...
তুমি।
– এই যে মিস্টার বাদাম . কথাটা শুনে বন্ধ মুখ টা হা হয়ে গেলো। পার্কের টুলে বসে বসে বাদাম খাচ্ছি। এমন সময় মেয়েলী কন্ঠে এমন ডাক। এটা নিশ্চই কল্পনার বাইরে। . – এই আমার নাম আছে। আর আপনি অাগন্তুক কোথা থেকে এসে আমাকে মিস্টার বাদাম বলছেন?? – অামি অাপনার নাম জানি না তাই বাদাম খাচ্ছেন দেখে ওটা বললাম। – মাথায় সমস্যা??? – থাকতেও পারে। – ওই অাপনি অামাকে পাগল ভাবছেন?? – হতেও তো পারেন। – অাপনাকে অাপনাকে – কি?? – অামার মাথা। – তো এটা বলতে এরকম করা লাগে?? – ওহহ এই অাপনি কে?? – এতক্ষন যার সাথে ঝগড়া করছেন. – ও মোর খোদা অামারে উঠাই নাও না ক্যান। – দাড়ি বা মই কিছু তো খোদায় দিলো না উঠবেন কি করে?? – অাপনি কি পাবনা থেকে এসেছেন?? – মরতে যাবো পাবনা?? – তো অামাকে মারতে অাসছেন কেন?? – মারতে অাসলে তো সেই কখন মেরে ফেলতাম। – তো কেন এসেছেন?? – অাপনাকে নিতে। – কোথায়?? – পাবনায়। – অাপনার মাথায় সমস্যা অাপনি যান। – অাসুন তো। – কোথায়?? – অামার সাথে। – দেখুন অামার একজনের সাথে দেখা করার কথা। – লাগবেনা সেটা। – অাপনাকে অামি চিনিনা অাপনার সাথে কোথায় যাবো?? – এতক্ষন কথা বলার পরও অচেনা?? – হুমম ...
