প্রায় তিন বছর আগে, একটা Snapchat থেকে শুরু হয়েছিল আমাদের পরিচয়। তখন হয়তো ভাবতেও পারিনি, একটা সাধারণ পরিচয় একদিন এতটা আপন হয়ে যাবে। দেখতে দেখতে প্রায় তিনটা বছর কেটে গেল। এই তিন বছরে কত কিছুই না বদলেছে। সময় বদলেছে, পরিস্থিতি বদলেছে, আমাদের জীবনেও অনেক কিছু এসেছে, আবার অনেক কিছু হারিয়েছিও। কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বটা থেকে গেছে। ভালো সময়ে যেমন একে অপরের পাশে ছিলাম, তেমনি খারাপ সময়েও চেষ্টা করেছি কাউকে একা থাকতে না দিতে। কত কথা বলেছি, কত রাত গল্প করেছি, কত হাসি, কত পাগলামি, কত স্মৃতি জমেছে আমাদের। আবার কত ঝগড়া করেছি, তার কোনো হিসেব নেই। কখনো ছোট কোনো বিষয় নিয়ে, কখনো ভুল বোঝাবুঝি থেকে, আবার কখনো এমন কিছু নিয়ে, যেটা এখন মনে করলে নিজের কাছেই হাসি পায়। রাগ হয়েছে। অভিমান হয়েছে। কথা বলা বন্ধ হয়েছে। তারপর আবার ঠিকও হয়ে গেছি। হয়তো এটাই আমাদের বন্ধুত্বের সবচেয়ে সুন্দর দিক ছিল। ঝগড়া যতই হোক, অভিমান যতই হোক, শেষ পর্যন্ত কোথাও একটা জায়গায় আমরা আবার একে অপরের কাছে ফিরে এসেছি। কিন্তু ইদানীং একটা পরিবর্তন অনুভব করি। আগের মতো আর ঝগড়া হয় না। হয়তো এটা ভালো একটা ব্যাপার। কিন্তু জানো, মাঝে মাঝে এই নীরবতাটাই কেমন ...
রাগে ক্ষোভে চুপিসারে শাহেদ বাসা থেকে বের হয়ে গেল। আজ সে উদ্দেশ্যহীন, একটা চলন্ত ট্রাক বা বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে সুইসাইড করবে সে। মোবাইল বেজে উঠল পকেটে। ভুল করে মোবাইল বন্ধ করেনি শাহেদ। বাসা থেকে তানিয়া ফোন করেছে। - না বলে বেড়িয়ে গেছ! কোথায় তুমি? - একটা ট্রাক বা বাসের নিচে ঝাঁপ দেব। বেশ কনফিডেন্টলি বলল শাহেদ। - ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাসায় না আসলে আমাকে ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখাবে, লাইন কেটে দিল তানিয়া। রাত সাড়ে আটটা বাজে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখল শাহেদ, কোন রিক্সা ট্যাক্সি নেই। হেঁটে পাঁচ মিনিটের ভিতর কোন অবস্থায় বাসায় পৌঁছান সম্ভব নয়। দৌঁড় দিল শাহেদ বাসা অভিমুখে। দৌঁড়.. ..... দৌঁড়... দৌঁড়। ঠিক চার মিনিট তেত্রিশ সেকেন্ডে বাসার কলিং বেল চাপে শাহেদ।