সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

বাস্তবতা

"একটা বয়সের পর আর কারো জন্য মন থেকে পাগলামি করা কিংবা অধিকার খাটাতে ইচ্ছা করে না, যেমনটা ইচ্ছা করেছিলো প্রথম সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষটার উপর !! এখন আর কেউ ব্যস্ততার অজুহাত দেখালে রাগ হয় না কিংবা কোনো খবর না নিলেও অভিমান হয় না। এখন আর নিত্যনতুন বাহানা কিংবা ইচ্ছা করেই ঝগড়া করতে ইচ্ছা হয় না। খুব দরকার না পড়লে জানতে ইচ্ছা করেনা কারোর সারাদিনের খবর। আগে সব আবেগের মাঝে ছিলো, এখন সব বাস্তবতায় চলে আসছে !! নির্দিষ্ট একটা সময়ের পর জীবনে অনেক কিছুই বদলে যায়। বদলে যায় মনের সব অনুভূতিও। বাস্তবতার কারণে হোক কিংবা কখনো ভুল কোনো মানুষের প্রতারণার শিকার হয়ে মানুষটা যখন জীবনের মর্মটা বুঝতে পারে, তখন থেকেই মানুষ উপলব্ধি করতে পারে নাটক কিংবা সিনেমার মতো জীবনের গল্পটা সাজানো যায় না !! প্রথম যে মানুষটার উপর একবার মন আটকে যায়, সেই মানুষটা চলে গেলে পুরো জীবনটাই বদলে যায়। পরে তার থেকে আরো যতো সুন্দর কিংবা ভালো মানুষই জীবনে আসুক না কেনো, ঐ চলে যাওয়া মানুষটার মতো অনুভূতি আর কোনো মানুষের উপর পড়ে না। আর কারো উপর মন আটকে যায় না !! জীবন তো আর কারো জন্য থেমে থাকে না, তাই একটা পর্যায় নতুন মানুষ আসে। তার মতো করেই ম...

★অসহায়★

"একটা সম্পর্ক যখন একজনের কারণে ভেঙে যায়, তখন অপর মানুষটা বড্ড অসহায় হয়ে পরে... চাইলেও কিছু করা যায় না, বাস্তবতার কাছে হার মেনে নিতে হয় !! . যে মানুষটা সম্পর্ক ভেঙে চলে যায়, সে জানে না অপর মানুষটাকে কতটা আঘাত দিয়ে সে চলে গেলো... কতটা একা করে চলে গেলো... মানুষটা কখনো বুঝবে না স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা কতটা কঠিন হতে পারে... মন ভাঙার যন্ত্রণা কতটা ভয়াবহ হতে পারে !! . সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর মানুষ যতটা কষ্ট পায়, তার থেকে বেশি কষ্ট পায় হারানো মানুষটার উপর অধিকার হারিয়ে ফেলার কারনে... কারণ বিচ্ছেদ শুধু মানুষটাকেই দূরে রাখেনা, মানুষটার সাথে সমস্ত অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়ে যায় !! . যে মানুষটার সাথে নিয়মিত কথা হতো, এখন আর কথা হবে না... যাকে যখন তখন ফোন দেয়া যেতো, এখন সেই অধিকার নাই... যাকে যখন তখন দেখা করার জন্য বলা যেতো, এখন সেই সুযোগ নেই... কারণে অকারণে যার সাথে নিয়ম করে মান-অভিমান কিংবা ঝগড়া করা যেতো, এখন মানুষটা অন্য কাউকে নিয়ে ব্যস্ত !! . প্রিয় মানুষটাকে হারিয়ে ফেলার কারণে মানুষ যতটা কাঁদে, তার থেকে বেশি কাঁদে মানুষটার উপর সম্পূর্ণ অধিকারটুকু হারিয়ে ফেলার কারনে... যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতো, একসাথে ব...

অভিমানী নিলাম্বড়ী

- কি রান্না করছো এইগুলো?? এসব মানুষ খায়??? কি শিখছো জীবনে??? এখনও রান্নাও করতে পারোনা... যত্তসব!!!! "এমনি আনলিমিটেড ভাবে ওকে কথাগুলো বললাম.....আসলে রান্নাটা অনেক ভালো হইছে কিন্তু আজকে ওর অভিমানী মুখটা দেখতে খুব ইচ্ছে হলো, তাই ইচ্ছে করেই এসব বলছি..... - এভাবে বলছো কেন?? আমিকি ইচ্ছে করে এমন করছি? - আমি কি জানি? করতেও পারো - তুমি এই কথাটা বলতে পারলে?( কান্নাজড়িত কন্ঠে ) - হ্যা পারলাম, কারন প্রতিদিন তোমার হাতের এসব বাজে খাবার আর ভালো লাগেনা। - তার মানে আমার রান্না তোমার কাছে কখনও ভালো লাগেনি?? ( এখনি কেদে দিবে মনে হয় ) - না লাগেনি, তুমি খাও এসব আমি গেলাম.... কিছুসময় পর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। বুঝলাম নিলাম্ভরি কাদছে। ও হ্যা পরিচয়টাইতো দেওয়া হয়নি, আমি আদি। আমার বউ তাহমিনা, আদর করে নিলাম্ভরি ডাকি। আমাদের বিয়ে হয়েছে আজকে ৬মাস। বিয়ের আগে প্রেম করলেও পারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়েটা সম্পন্ন হয়। খুব সুখেই আছি দুজন। ঐদিকে ও কান্না করেই চলছে। আমিও চাই কাদুঁক, কাঁদতে কাঁদতে যেন ওর অভিমানের মাত্রা ১০০০ বোল্টের হয়..... যাইহোক রাতে আর খাওয়া হয়নি। জানি পাগলিটাও খায়নি....হঠাৎ কান্নার আওয...

মায়াজাল

উফ, আর ভালো লাগছেনা অফিসে যেতে......... মনে মনে বলল হাদী। আর লাগবেও বা কিভাবে? অফিসে জয়েন করার পর তার সাথে যা ঘটছে রীতিমতো বিরক্তিকর। নতুন অফিসে ম্যানেজার হিসাবে জয়েন করার পরে দেখলো তার অফিসে যিনি এমডি তিনি আর আর কেউ নন তারই একসময়ের সহপাঠিনী স্পর্শীয়া। পরে বুঝতে পারলো স্পর্শীয়ার বাবাতো এই কোম্পানির চেয়ারম্যান আর সেই সুবাদে তার এই পজিশন। ভার্সিটি লাইফ থেকে স্পর্শীয়া তাকে পছন্দ করতো সেটা সে জানতো কিন্তু কখনো সেটা গায়ে লাগায়নি। এখনতো রীতিমতো স্পর্শীয়ার সাথে সারাক্ষন থাকতে হয়। মাঝে মাঝে যখন স্পর্শীয়ার দিকে তাকায় তখন দেখে স্পর্শীয়া তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তখন হাদীর অনেক অস্বস্তি বোধ করে। বড় ধরনের অঘটন ঘটেছে গত সপ্তাহে স্পর্শীয়ার জন্মদিনে। সেখানে স্পর্শীয়া হঠাৎ করে হাদীর নাম ঘোষণা করে গান গাওয়ার জন্য কারন স্পর্শীয়া জানতো হাদী ভালো গাইতে পারে। তাই অগত্যা গান গাইলো তাও মায়ের গান। হাদী গান গাওয়ার আগেই বলেছিলো আজকের দিনে যিনি এই পৃথিবীতে এসেছিলেন তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই মা যার কারনে আজকে এই স্পর্শীয়া ম্যাডামকে আমরা পেয়েছি। সে মাকে নিয়ে আজকে আমার পরিবেশন...

ভালোবাসা II

যেদিন কলেজে প্রথম যাই সেদিন আমি নিশ্চুপ ছিলাম। তেমন কাউকে চিনি না। প্রথম কয়েকদিন ক্লাস হয়নি। এর কয়েক দিন ঠিকঠাক মত ক্লাস হচ্ছে। আমি একটু লাজুক টাইপের ছিলাম। হঠাত্‍ ক্লাস চলাকালীন সময়ে একটা মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে কি যেন করল। মানে চোখ টিপা মারল আরকি। আমি শরমে মাথা নিচু করে ফেললাম। মেয়েটার নাম স্পর্শীয়া। একদিন ক্যাম্পাসে হেটে যাচ্ছিলাম হঠাত্‍ হাম্বা বলে ডাক দিল। আমি বামে ডানে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই তার মানে আমিই হাম্বা। আচ্ছা আমি কি গরু? বাসায় এসে নিজের কোমড়ের নিচে তাকিয়ে দেখলাম কই আমার তো লেজ নেই। আমার তো দুইটা শিং নেই তাহলে হাম্বা বলে ডাক দিল কেন? এই মেয়েটা একটা বদ মেয়ে। আমি কত ভদ্র ছেলে আর আমাকে হাম্বা বলে। এরপর থেকে স্পর্শীয়াকে দেখলেই নিজেকে আড়াল করে রাখতাম। কিন্তু মেয়েটার সামনে কিভাবে যেন হাজির হয়ে যেতাম। এবার আমাকে রামছাগল বলে ডাকল। আমি মাথা নিচু করে বললাম আপনি আমাকে দেখলে এই রকম করেন কেন? মাথা নিচু করে এজন্যই বললাম মেয়েদের চোখের দিকে তাকাতে পারি না। চোখের দিকে তাকাঁলে কলিজা ধুক ধুক করে আর বুকের মাঝে কম্পন তৈরি হয়। " আল্লাহ খোকা বাবু তুমি আমাকে আপনি করে বলতেছো? "দেখেন...

★অভিমান II★

- যখন জিন্সের মোটা মোটা প্যান্টগুলো নিজের হাতে কাঁচতে হবে তখন বুঝবা। - আজ থেকে আর তোমার কাঁচতে হবেনা আমিই কাঁচব। - মজার মজার রান্না কে করে খাওয়াবে? সেটা তো আর নিজে করতে পারবানা। যখন পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখ জ্বলবে তখন বুঝবা। - রান্না করার খোঁটাও দাও এখন। ভুলে যেওনা চার বছর মেসে থাকার অভিজ্ঞতা আছে আমার। কাল থেকে আমার রান্না আমিই করবো। তোমার আর করতে হবেনা। - এগুলা নাহয় বাদ দিলাম। আমাকে ছাড়া যে তোমার ঘুম হয়না। তখন তো পাগলের মত হয়ে যাও। - এটাও সমস্যা? ওকে তাহলে কাল থেকে রাতে আর বাসায় ফিরব না। তাহলেই তো সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। - আমাকে ছাড়া ভাল থাকতে পারবা? - ভাল থাকার অভিনয় তো জন্ম থেকেই করে আসছি। আর এখন পারবো না? - ঠিকাছে ঠিকাছে কালকেই চলে যাবো। আমাকে তো আর কারো এখন প্রয়োজন নেই। একা একাই সব করতে পারে। - কথাগুলো শুনতে এখন আর খারাপ লাগেনা লাল মরিচের গুঁড়ায় যদি কাঁচা মরিচ দেয়া হয় তাহলে লাল মরিচের ব্যাথা লাগেনা। - এতো কথা প্যাঁচানোর কিছু নেই। বুঝি সব বুঝি। - ঠিকমত কাঁদতেই পারনা তাহলে কাঁদার কি দরকার? কই! চোখ দিয়ে তো একটুও পানি পরেনা। - তাতে তোমার কি? আমি কাঁদলেই কি? হাসলেই কি? তোমার ...

☆দায়ভার☆

শীতের রাত, কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে চারিদিক। রুমা পালিয়ে গেছে অনেক্ষণ হলো, রুমার মা অস্থিরভাবে পায়চারি করছেন শুধু কি করবেন যেনো বুঝতেই পারছেন না। তিন ভাইয়ের এই একটাই বোন রুমা। ছোট থেকেই ভীষণ আদরের ছিল ,কিন্তু আট বছর বয়সে ভয়ংকর এক জ্বরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এখন সে সবার কাছে রুমা পাগলি নামেই পরিচিত! চিকিত্‍সাও খুব একটা কম হয়নি তার। তবে অশিক্ষিত পরিবারে জন্ম হওয়ায় জ্বিনে ধরেছে মনে করে ঝাড়ু পেটাই খেতে হয়েছে বেশি রুমার! এতে ভালো তো হয়নি মাথাটা আরো বিগড়ে গেছে যেন! শীত আসলে পাগলামি বেড়ে যায় । রুমার মা দৌঁড়ে গিয়ে ছেলে রাজুকে ডেকে তুলেন "রাজু রুমাতো পালিয়ে গেছে! কোথায় গেল একটু দেখনা বাপ!" রাজুর চোখে মুখে একরাশ বিরক্তি ফুটে উঠে,বলে"পালাতে দিলে কেন তুমি?আমি এখন কোথায় খুঁজবো তাকে?" - আমার সাথেই তো ঘুমিয়েছে ,কখন যে উঠে গেল টের-ই পেলামনা । রাজু পাশের বাড়ি থেকে রনিকে ডেকে তুলে খুঁজতে থাকে? কিন্তু কোথাও পায়না! ওরা যখন রুমার খোঁজে ব্যস্ত রুমা তখন অনেক দূরে, রুমাকে নিয়ে তখন চলছে মানুষ রুপি হিংস্র হায়নাদের পাশবিকতার চরম উল্লাস! রুমা বাড়ি থেকে বেরুতেই ওদের একজন রুমার...